১. গভীর ঘুমের জন্য :
যোগব্যায়াম বিশেষজ্ঞরা বলেন, ঘুমের আগে শীতল পানি দিয়ে হাত, বাহু, চোখ, পা, মুখ ও যৌনাঙ্গ ধৌত করলে ঘুম গভীর ও আরামদায়ক হয়। অথচ সেই ১৪০০ বছর পূর্বে আমাদের প্রিয় নবি (সা.) এই নির্দেশনা দিয়ে গিয়েছেন। তাই আমাদের আর যোগব্যায়ামের দ্বারস্ত হতে হয় না। যেমন– বারা ইবনে আজিব (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘নবি (সা.) বলেছেন–তুমি বিছানায় যাওয়ার পূর্বে সালাতের অজুর মতো অজু করে নেবে...’
৩. হাত ধৌত করার মাধ্যমে ব্লাড সার্কুলেশন বৃদ্ধি পায়। এটিও প্রতিষ্ঠিত যে বিভিন্ন অঙ্গে রক্ত সঞ্চালন দুর্বল থাকে। কারণ, এই অঙ্গগুলো রক্ত পাম্পিং হার্টের কেন্দ্র থেকে অনেক দূরে। অতএব, অঙ্গগুলো ধৌত করলে প্রত্যন্ত এই অঞ্চলগুলোতে রক্ত সঞ্চালন সক্রিয় হয়, যা ব্যক্তিকে আরও দৃঢ় করে তোলে।
৪. নিয়মিত হাত ধৌতের মাধ্যমে নিউমোনিয়া প্রতিরোধ করা সম্ভব। পাকিস্তানে করা একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত ৫ বছরের কম বয়সি বাচ্চাদের সংক্রমণের ৫০%-এর বেশি কেবল হাত ধোয়ার মাধ্যমে প্রতিরোধ করা যেতে পারে। ধোয়া হাতের মধ্যে সংক্রামক রোগ-জীবাণুগুলো কমে যায়, যার ফলে শ্বাসকষ্টের সংক্রমণও হ্রাস করে।
৫. সম্প্রতি দ্যা ক্লিনিক্যাল মাইক্রোবায়োলোজি জার্নালএ ‘সিস্টেমিক ডিজিজ কস্ড বাই ওরাল ইনফেকশন’ নামে একটি রিভিউ প্রকাশিত হয়েছে। এতে মৌখিক স্বাস্থ্যবিধি ও সিস্টেমিক রোগের মধ্যে সরাসরি যোগসূত্র খুঁজে পেয়েছে তারা।
এই রোগগুলোর মধ্যে রয়েছে কার্ডিওভাসকুলার ডিজিজ, ব্যাকটেরিয়াল নিউমোনিয়া, অস্টিওপোরোসিস ও ডায়াবিটিস সম্পর্কিত জটিলতা। তবে অজু করে নিলে এই সংক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে।
এ ছাড়াও স্বাস্থ্যবিজ্ঞানীরা বলেন, পেশাব-পায়খানা করার সময় মানুষের দেহ হতে একপ্রকার বিষাক্ত পদার্থ নির্গত হতে থাকে। এগুলো দেহ থেকে বের হওয়ার জন্য দেহের অঙ্গপ্রত্যঙ্গগুলোর শেষ প্রান্তে এসে অবস্থান করে। তাই স্বাস্থ্যবিজ্ঞানীরা বলেন, এই বিষাক্ত পদার্থ দূর করার জন্য পেশাব-পায়খানা শেষে অঙ্গপ্রত্যঙ্গগুলো ধৌত করে নেওয়া জরুরি। অন্যথায় এগুলোর কারণে বড়ো ধরনের রোগ হওয়ার ঝুঁকি থেকে যায়।
আর ওই অঙ্গপ্রত্যঙ্গগুলোই আমরা অজুর সময় ধৌত করি।
অজু করার ব্যাপারে নির্দেশনা নিয়ে পবিত্র কুরআনে আল্লাহ বলেন–
یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡۤا اِذَا قُمۡتُمۡ اِلَی الصَّلٰوۃِ فَاغۡسِلُوۡا وُجُوۡہَکُمۡ وَ اَیۡدِیَکُمۡ اِلَی الۡمَرَافِقِ وَ امۡسَحُوۡا بِرُءُوۡسِکُمۡ وَ اَرۡجُلَکُمۡ اِلَی الۡکَعۡبَیۡنِ-
‘হে মুমিনগণ! তোমরা সালাতে দণ্ডায়মান হতে চাইলে তোমাদের মুখ ও কনুই পর্যন্ত হাত ধৌত করো, মাথা মাসেহ করো এবং টাখনু পর্যন্ত পা (ধৌত করো)।’
মুমিনরা দিনে-রাতে প্রতিদিন পাঁচবার সালাতে দাঁড়াতে হয়। আর এজন্য কমপক্ষে পাঁচবার অজুও করতে হয় (এক অজু দিয়েও একাধিক নামাজ পড়া যায়)। আমরা আল্লাহর নির্দেশনা মেনে অজু করছি, নামাজ পড়ছি; প্রতিদানে বোনাস হিসেবে দুনিয়াতে সুস্থ থাকছি আর মূল টার্গেটের জায়গা পরকালীন জান্নাতেও যেতে পারছি, ইনশাআল্লাহ।
অথচ অবিশ্বাসীরা এর কোনোটিই পাচ্ছে না; যদিও তারা এখন গবেষণা করে কমপক্ষে দুনিয়াতে সুস্থ থাকার এই ১৪০০ বছর পূর্বের পদ্ধতিগুলো আবিষ্কার করছে।
নববি স্বাস্থ্যকথন বই থেকে...
0 Comments