Ad Code

Ticker

8/recent/ticker-posts

বই : নীল বিষ-পর্নোগ্রাফি ব্যক্তির জীবনের নিয়ন্ত্রণ

 ষষ্ঠ স্তর : এই স্তরে এসে পর্নোগ্রাফি ব্যক্তির জীবনের নিয়ন্ত্রণ তার নিজের হাতে তুলে নেয়। চাকরি, পড়াশোনা, ক্যারিয়ার, আড্ডা থেকে আসক্ত ব্যক্তি নিজেকে সরিয়ে নিতে শুরু করে। দিনের একটা বড়ো সময় চলে যায় যৌন ফ্যান্টাসির চিন্তায়। সপ্তাহের প্রতিটা দিনই তার কাটে কোনো না কোনো ভিডিও দেখার মাধ্যমে। নিয়ন্ত্রণহীন এই জীবন একসময় দুর্বিষহ হয়ে ওঠে।

বই : নীল বিষ-পর্নোগ্রাফি ব্যক্তির জীবনের নিয়ন্ত্রণ
এই স্তরে এসে মানুষ মিথ্যা বলতে শুরু করে। যেহেতু তার জীবনের কিছুই আর ঠিক থাকে না; আবার কেন ঠিক নেই, সেই উত্তরও তার কাছে নেই, সেহেতু সে মিথ্যা বলতে শুরু করে। কম্পিউটার বা মোবাইল ফোনের সিংহভাগ স্টোরেজ চলে যায় ওই ভিডিওগুলোর দখলে। জীবনের স্টোরেজও কি ওই পর্নোগ্রাফির ভয়াল থাবায় ঢেকে যায় না? কেউ হারান চাকরি, কেউ হারান সম্পদ কেউ বা হারায় জীবনসঙ্গী। কেউ তো আবার খোদার ওপর বিশ্বাসটাই হারিয়ে ফেলেন; কিন্তু এই সর্বনাশা নেশা থেকে সরে আসা আর হয় না। আহারে! পরম আকাক্সক্ষার এই মানবজনমের কী নিদারুণ অপচয়!

সপ্তম স্তর : সপ্তম স্তরে এসে আসক্ত ব্যক্তির অ্যাক্টিং আউট (Acting Out) করা নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনায় পরিণত হয়। পর্ন দেখে সেটার বাস্তবে অনুকরণকে বলা হয় অ্যাক্টিং আউট। এই কাজ করতে গিয়ে সে তার মনোযোগ দিয়ে কাজ করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে, প্রোডাক্টিভিটি হয়ে যায় জিরো। আসক্ত ব্যক্তির কাজ হয় সারাদিন বিভিন্ন সাইটে ভিডিও খুঁজে বের করা এবং দেখা। দিনে দিনে রুচি আরও নিচে নামতে থাকে। নোংরা থেকে নোংরাতর ভিডিওর দিকে আগ্রহ বাড়তে থাকে। আগের দেখা সাধারণ ভিডিওতে তাদের আর উত্তেজনা আসে না। তারা তখন উত্তেজিত হতে অজাচার, যৌন সহিংসতা বা পশুকামিতার ভিডিও খুঁজে খুঁজে বের করতে থাকে। মনুষ্যত্ব তখন হাবুডুবু খাচ্ছে নীল পানির জোয়ারে। সৃষ্টির সেরা জীব মানুষ তখন ব্যস্ত নীচে থেকে আরও নীচে নামার বিকৃত প্রতিযোগিতায়।

এই স্তরে পর্ন দেখে বাস্তবে অনুকরণের প্রতি এক গভীর বাসনা তার অন্তরে লুকিয়ে থাকে। অনেকেই ভিডিওতে দেখা জিনিস বাস্তবে অনুকরণের চেষ্টাও করে। কথায় কথায় মিথ্যা বলা আর অস্থিরতা তাদের আচরণের অন্তর্ভুক্ত হয়। কেউ কেউ অবশ্য আসক্তি কমানোর চেষ্টা করেন, কিন্তু কিছুদিন চেষ্টা করার পরেই ব্যাপারটাকে অসম্ভব মনে হয়।

এ স্তরের পর্নাসক্তির বাজে পরিণতির মোকাবিলায় ব্যক্তি ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েন। তাদের ‘মাইন্ড টাইম’ (একা থাকা, কর্মক্ষেত্র বা অন্যদের সাথে কথা বলার সময় ব্যক্তি আপন মনে যা ভাবেন)-এর ওপর পর্নের চিন্তা আধিপত্য বিস্তার করে। যদি অ্যাক্টিং আউট করতে না পারেন, তাহলে তারা মনমতো যৌন ফ্যান্টাসিতে ডুবে যান। অ্যাক্টিং আউট আসক্তির ক্ষেত্রে সবচেয়ে ভয়ংকর স্তরের নাম। এই স্তরের আসক্তির ফলে ব্যক্তির বেঁচে থাকার ইচ্ছা পর্যন্ত ‘নাই’ হয়ে যেতে পারে।

বই : নীল বিষ



01710-197558, 01998-584958, 02-57165517 ইমেইল: guardianpubs@gmail.com

Post a Comment

0 Comments

Ad Code