Ad Code

Ticker

8/recent/ticker-posts

নারী কি পুরুষের সাথে কথা বলতে পারবে ?

 অনেকের ভাষ্য–নারীদের গলার স্বর সতরের অন্তর্গত।

নারী কি পুরুষের সাথে কথা বলতে পারবে


অতএব, কোনো নারীর জন্য স্বামী কিংবা মুহরিম ছাড়া অন্য পুরুষের সাথে কথা বলা জায়েজ নেই। কারণ, তাদের গলার স্বর স্বাভাবিকভাবেই সুমিষ্ট ও ফিতনা সৃষ্টির কারণ। অনেক ক্ষেত্রে তা পুরুষের মনে প্রবৃত্তিও জাগিয়ে তোলে।

আমি এ বিষয়ে যথেষ্ট অনুসন্ধানী ছিলাম। এ মতের পক্ষে অনেক দলিল খোঁজাখুঁজিও করেছি। কিন্তু একটিও এমন দলিল পাইনি, যার ওপর নির্ভর করা যায়। বরং এর উলটো বক্তব্য পেয়েছি।

পর্দার অন্তরাল থেকে নবির স্ত্রীদের কাছে পর্যন্ত কোনো কিছু চাওয়ার কিংবা জানার অনুমতি দিয়েছে আল কুরআন। অথচ নিষিদ্ধ বিষয়ে নবির স্ত্রীদের ব্যাপারে কুরআন যেরূপ কড়াকড়ি করেছে, অন্যদের ব্যাপারে তা করেনি।

আল্লাহ তায়ালা বলেন–


وَاِذَا سَاَلْتُمُوْهُنَّ مَتَاعًا فَاسْـَٔلُوْهُنَّ مِنْ وَّرَاۤءِ حِجَابٍ-

‘তোমরা তাদের (নবিপত্নীগণের) কাছে কোনো কিছু চাইলে পর্দার অন্তরাল থেকে চাও।’

জানতে চাওয়ার অনুমতি থেকে বোঝা যায়, তাদের জবাব দেওয়ারও অনুমতি রয়েছে। আর উম্মাহাতুল মুমিনরা জবাব দিয়েছেনও। তাঁদের কাছে মাসয়ালা জিজ্ঞেস করা হলে তাঁরা ফতোয়া দিয়েছেন। তাঁদের কাছে কেউ হাদিস শুনতে চাইলে তাঁরা তা বর্ণনা করেছেন। বিশেষ করে আয়িশা (রা.)-এর বর্ণিত হাদিস তো সংখ্যায় প্রচুর।

পুরুষদের মজলিসে নারীরা এসেও নবিজির কাছে প্রশ্ন করেছে। নবি (সা.) এটা দোষণীয়ও মনে করেননি এবং তাদের এমন করতে নিষেধও করেননি।

উমর (রা.) খুতবা দিচ্ছিলেন মিম্বারে দাঁড়িয়ে। আর তখনই এক নারী উমরের বক্তব্যকে খণ্ডন করেছে। অথচ উমর (রা.) তার এই বক্তব্য খণ্ডনকে অপছন্দ করেননি; বরং নিজের মত ভুল ও তার মত সঠিক হওয়ার কথা স্বীকার করে বলেছেন–‘প্রত্যেকেই দেখছি উমরের চেয়ে বড়ো ফকিহ।’
[ইমাম তাহাবি, শরহু মাআনিল আসার : ৫০৫৯; বায়হাকি, আস-সিদাক : ৭/২৩৩]

সূরা কাসাসেও আমরা দেখতে পাই–শুআইব (আ.)-এর যুবতি মেয়ে মুসা (আ.)-কে উদ্দেশ্য করে বলছেন–

اِنَّ اَبِيْ يَدْعُوْكَ لِيَجْزِيَكَ اَجْرَ مَا سَقَيْتَ لَنَا-

‘আমার বাবা আপনাকে ডাকছে। আপনি আমাদের জন্তুগুলোকে যে পানি পান করিয়েছেন, তার প্রতিদান দেওয়ার জন্য।’

এর আগেও সে ও তাঁর বোন মুসা (আ.)-এর সাথে কথা বলেছিল। মুসা (আ.) তাঁদের জিজ্ঞেস করেছিলেন, আরা তাঁরাও জবাব দিয়েছিলেন।

قَالَ مَا خَطْبُكُمَا ۗقَالَتَا لَا نَسْقِيْ حَتّٰى يُصْدِرَ الرِّعَاۤءُ وَاَبُوْنَا شَيْخٌ كَبِيْرٌ-

‘মুসা জিজ্ঞেস করল–তোমাদের দুজনের ব্যাপার কী? তারা বলল, রাখালরা তাদের পশুকে সরিয়ে না নেওয়া পর্যন্ত আমরা আমাদের পশুকে পান করাতে পারি না। আর আমাদের পিতাও একজন বয়োবৃদ্ধ মানুষ।’

সুলাইমান (আ.) ও সাবার রানির মধ্যে যে কথোপকথন হয়েছিল, কুরআন তা আমাদের কাছে বর্ণনা করেছে। সাবার রানির সাথে তার মন্ত্রিপরিষদের যে আলাপ হয়েছিল, বর্ণনা করেছে তাও। আর সর্বজনগ্রাহ্য মত হলো–পূর্ববর্তী শরিয়ায় যা সিদ্ধ, তা বৈধ আমাদের জন্যও। তবে আমাদের শরিয়ায় যদি তা রহিত করা হয়, তাহলে ভিন্ন কথা।

অতএব, কুরআন কথা বলার অনুমতি দিয়েছে। তবে এক্ষেত্রে নিষেধ করেছে নরম ও মিষ্টি স্বরে কথা বলতে। কারণ, এর দ্বারাই পুরুষ নারীর প্রতি আকৃষ্ট ও আসক্ত হয়ে ওঠে।

কুরআন এটিকে এভাবে বর্ণনা করেছে–


يٰنِسَاۤءَ النَّبِيِّ لَسْتُنَّ كَاَحَدٍ مِّنَ النِّسَاۤءِ اِنِ اتَّقَيْتُنَّ فَلَا تَخْضَعْنَ بِالْقَوْلِ فَيَطْمَعَ الَّذِيْ فِيْ قَلْبِهٖ مَرَضٌ وَّقُلْنَ قَوْلًا مَّعْرُوْفًا-

‘হে নবিপত্নিগণ! তোমরা অন্য নারীদের মতো নও। তোমরা যদি আল্লাহকে ভয় করো। তবে পরপুরুষের সঙ্গে কোমল কণ্ঠে এমনভাবে কথা বলো না, যাতে যার অন্তরে ব্যাধি আছে সে প্রলুব্ধ হয়। তোমরা সংগত কথা বলো।’

সুতরাং কোমল কণ্ঠে নরম স্বরে কথা বলা নিষিদ্ধ। কারণ, যার মনে আসক্তির রোগ আছে–তা তাদের জন্য প্রলুব্ধকর। তাই বলে পুরুষের সাথে সম্পূর্ণরূপে কথা বলা নিষিদ্ধ নয়। কারণ, আয়াতের শেষাংশে বলা হচ্ছে ‘তোমরা সংগত কথা বলো।’

অতএব, প্রয়োজনে কথা বলা দোষের নয়।

ড. ইউসুফ আল কারজাভির ‘ইসলামের চোখে নারী’ বই থেকে.

Post a Comment

0 Comments

Ad Code