মুজাহিদ শুভ সম্পাদিত ‘তরঙ্গে দাও তুমুল নাড়া’ সংকলনে ১০০ টি কবিতা রয়েছে। প্রত্যেকটি কবিতা যেন এক সফল বিপ্লবের কথা বলে, কথা বলে ঘুমিয়ে যাওয়া দেহকে শব্দমালা দিয়ে জাগানোর, উৎসাহিত করে নৈতিকতার ভিত্তি স্থাপনের সন্ধান তৈরিতে, হৃদয়ে লিখে দেয় ঘোষিত ধ্বংসাত্মক শক্তিকে পরাজয় করার মন্ত্র, জেগে উঠে বুকে এক অসীম সাহসের পর্বতমালা।
কবিতা পড়ে যা যা জেনেছি :
• ইতিহাস• সত্যের ডাক• দায়িত্ব ও কর্তব্য• জয়-পরাজয়-জয়• স্থায়ী ঠিকানা
১. ইতিহাস : মুসলমান যুবক হিসেবে আমাদের জানতে হবে সঠিক ইতিহাস। কোন কাঁটা পথ দিয়ে, কোন রক্তের সাগর পেরিয়ে মুসলিমরা আজ ইসলামের শাশ্বত বাণী বলে—তা আমাদের জানা খুবই প্রয়োজন। সাগরে চলমান নৌকা যেমন ঘূর্ণিঝড়ে আপন পথ ভুলে যায়, ঠিক তেমনই ষড়যন্ত্রের প্রবল বাতাস চেষ্টা করে মুসলমান যুবকদের আপন পথ হারাতে।
কবি মতিউর রহমান মল্লিক ‘আমাদের মিছিল’ নামক কবিতায় এইভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন ইতিহাসের সুবিন্যস্ত পথকে।
২. সত্যের ডাক : পৃথিবীর সূচনালগ্ন থেকে শুরু হয়েছে এক বিস্ময়কর ডাক। যিনি এই পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন, যাঁর হাতেই সকল সৃষ্টির সমাপ্তি, তিনিই মহান রব। তাঁর একত্ববাদ ও পবিত্রতা বিশ্লেষণে যুগে যুগে অনেক নবি-রাসূলগণ ডেকে আসছেন পুরো পৃথিবী জুড়ে। তারই ধারাবাহিকতায় আজ আমরা সত্যের এই ডাক পেয়েছি। এই পথ আমাদের। এই পথ সত্যের বিশ্লেষণ। সত্যের এই ডাক আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য।
কবি কাজী নজরুল ইসলাম ‘এক আল্লাহ জিন্দাবাদ’ নামক কবিতায় বিশ্বাসের বয়ানে তুলে ধরেছেন সত্যের ডাক ও প্রেরণা।
৩. দায়িত্ব ও কর্তব্য : একবিংশ শতাব্দীর অন্যতম প্রভাবশালী শব্দ হলো দায়িত্ব ও কর্তব্য। মুসলমানরা দায়িত্ব ও কর্তব্য থেকে যেই দিন মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে, সেই দিন থেকে আশার বাণীর স্পষ্টতা দূরে সরে গিয়ে হতাশার মন্ত্র কাছে এসেছে। তাই এখনই সময় এই শতাব্দীর প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে প্রত্যেকে নিজ নিজ দায়িত্ব ও কর্তব্যকে বুঝে নেওয়া।
কবি শাকিল রিয়াজ তাঁর কলমের দায়িত্ব ও কর্তব্যের ভিড়ে লিখেছেন ‘একটি সম্পূর্ণাঙ্গ বিপ্লবের জন্য’ নামক কবিতা—যেখানে নিমিষেই বুঝে নেওয়া যায় আপন ঠিকানাকে।
৪. জয়-পরাজয়-জয় : আমাদের ইতিহাস জয়ের, মাঝেমধ্যে পরাজয়ের মুখোমুখি, আবারো ঘুরে দাঁড়িয়ে জয়ের ফুলে সুবাসিত হয়। এই নিয়মই চলতে থাকবে, ইনশাআল্লাহ।
‘আলোর পতাকা’ নামক কবিতায় কবি এমদাদুল হক নূরের কলমে পতপত করে উড়ছে জয়ের নিশান।
৫. স্থায়ী ঠিকানা : ‘স্মৃতির মেঘলাভোরে’ কবিতায় আল মাহমুদ বলেছিলেন—
কোনো এক ভোরবেলা, রাত্রি শেষে শুভ শুক্রবারে মৃত্যুর ফেরেস্তা এসে যদি দেয় যাওয়ার তাকিদ;
অপ্রস্তুত এলোমেলো এ গৃহের আলো অন্ধকারে ভালোমন্দ যা ঘটুক মেনে নেবো এ আমার ঈদ।
কবির এই নিবেদনে আমাদের মনে কতটা ভাব জমালে স্থায়ী ঠিকানার প্রভাব পড়বে—তা শুধু মহান রবের কাছে চাওয়া।
আমার সাধারণত ইতিহাস বা গল্প পড়তে খুবই ভালো লাগে। মাঝেমধ্যে কবিতা পড়া হয় কিশোর কণ্ঠে ও অনলাইন প্লাটফর্মে। তবে কিছুদিন আগে ১০০টি কবিতা সংকলনের এই বইটি উপহার হিসেবে পাই প্রিয় মুহাইমিনুল হাসান রিয়াদ ভাইয়ের নিকট থেকে। বইটি হাতে পাওয়ার পরপরই পড়া শুরু করে দিয়েছিলাম।
পড়ে এক অন্যরকম অনুভূতি জাগ্রত হয়। তা আজ প্রকাশে রূপান্তরিত করেছি।
অপসংস্কৃতির অধ্যায়ে সুস্থ সংস্কৃতির বিকাশ, মানবিক মূল্যবোধের অবক্ষয়ের এই সময়ে তারুণ্যের মনে সদা সত্যের বাণী দিয়ে তুমুল নাড়ার এখনই সময়।
সম্পাদক : মুজাহিদ শুভপ্রকাশনী : গার্ডিয়ান পাবলিকেশন্সআবদুল্লাহ আল নোমানকক্সবাজার

0 Comments