ইমরান খানের আত্মজীবনী
ইরানের শাহ, আফগানিস্তানের হামিদ কারজাই কিংবা আমাদের (পাকস্তিানরে) মোশাররফ বা জারদারিদের মতো স্বৈরশাসক এবং পুতুল শাসকরা যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে খুব কমই আদায় করতে সক্ষম হয়েছে।
সাধারণত দেখা গেছে, পদলহেননীতি শেষ পর্যন্ত কোনো কাজে আসেনি। কারণ, ওয়াশিংটন-এর দেখানো পথে হাঁটতে গিয়ে এসব শাসক আপন দেশবাসীর কাছে নিজেদের বিশ্বাসযোগ্যতা ও যাবতীয় সম্মান হারিয়ে ফেলেছে।
মাইকেল শুয়েয়ার তার ইম্পেরিয়াল হাবরিস বইতে আমেরিকার বিদেশ-নীতি, বিশেষত আফগানিস্তান ও পাকিস্তান বিষয়ে বলেন–
‘অন্যরা আমাদের নোংরা কাজগুলো করে দেবে না আমাদের যে শুধু এমন শিক্ষাই হয়েছে তা নয়; বরং তারা আমাদের নোংরা কাজ করা থেকেও যতটা সম্ভব বিরত রাখবে। যারা আমাদের কষ্টকর ও রক্তাক্ত কাজগুলো করে দেবে, তাদের খুঁজে পেতে আমরা এতটাই ব্যস্ত যে, আমরা বাস্তবতা উপলব্ধি করতে ব্যর্থ হয়েছি। আমরা এমন মিত্রদের তালিকাভুক্ত করেছি, যারা এমন কাজ করবে না কিংবা করতে পারবেও না।’
মুসলিম দেশগুলোতে আমেরিকার কিছু লবি সম্পর্কে ব্যাপক সন্দেহ রয়েছে যে, ওয়াশিংটন ও নিউইয়র্কে হামলার সূত্র ধরে তারা সেখানে নিজেদের স্বার্থ উদ্ধার করে চলেছে। এদের পুরোভাগে রয়েছে সেই লবি, ১৯৬১ সালে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোয়াইট আইজেনহাওয়ার ‘শিল্প-সামরিক’ জোট হিসেবে যাদের বর্ণনা করেন।
তাদের সাথে রয়েছে নব্য-রক্ষণশীল ও তাদের ওয়াশিংটনভিত্তিক থিঙ্ক-ট্যাঙ্ক ‘নতুন মার্কিন শতাব্দী প্রকল্প’। এর উদ্দেশ্য হচ্ছে বিশ্বজুড়ে আমেরিকার নীতি ও আদর্শ প্রচার এবং প্রসার করা। ৯/১১ হামলার পর নব্য-রক্ষণশীলরা সাদ্দাম হোসেনকে উৎখাত করার পক্ষে যথাযথ অজুহাত পেয়ে গেল। কারণ, সে-ই ১৯৯৭ সাল থেকেই এই গোষ্ঠীটি ইরাকে শাসক পরিবর্তন করার ধারণা প্রচার করে আসছে।
পরবর্তীকালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিজের অনুসন্ধানের ফলাফল থেকে জানা যায় যে, ইরাক ও ৯/১১-এর মধ্যে আদৌ কোনো সংযোগ নেই। তাদের সাথে জোটবদ্ধ হলো ই*জ*রাইল, যারা ইরাক এবং বিশেষ করে এর তেল শিল্পের কারণে হুমকির মুখে দিন কাটাচ্ছিল।
সাদ্দামের ধর্মনিরপেক্ষ ইরাকের সাথে ও*সা*মা বি*ন লা*দে*ন ও তার প্রচারিত মৌ*ল*বাদী ইসলামের কোনো সম্পর্ক নেই। এ ছাড়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইতঃপূর্বে ইরান-ইরাক যুদ্ধে সাদ্দামকেই সমর্থন করেছিল। জনগণ ভোলেনি আমেরিকা ইরাকে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ইচ্ছা প্রকাশ করলেও নিজের স্বার্থ রক্ষায় ওয়াশিংটন গত কয়েক দশক ধরে মধ্যপ্রাচ্যের স্বৈরাচারী শাসকদের সমর্থন দিয়ে আসছে। স্নায়ুযুদ্ধের সময় কমিউনিজমের হুমকি ছিল
তৃতীয় বিশ্বে স্বৈরাচারী শাসকদের সমর্থনের বড়ো অজুহাত। আর এখন সবকিছুর মূল কারণ হয়ে দাঁড়াল মৌ*ল*বাদী ইসলাম।
৯/১১-এর পর রাশিয়া, ই*জ*রাইল ও ভারতের মতো সরকার ‘সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ’ করার নামে নিজ নিজ দেশে বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে নৃশংসতার মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। যেকোনো ধরনের অসন্তোষের বিরুদ্ধে তাদের বর্বর আচরণ চরমপন্থাকে আরও উসকে দেয়। ২০১১ সালের গোড়ার দিকে আরব বিশ্বে বিপ্লব ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথে চরমপন্থিরা ভুলপথে চালিত হয় এবং ইতিহাসের ভুল প্রান্তে অবস্থান গ্রহণ করে।

0 Comments