মনের মিল জীবনসঙ্গী নির্বাচনের ক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
কোনো কোনো মানুষ এমন আছে, যার সাথে কখনো একসঙ্গে থাকতে পারবেন না। হয়তো বাহ্যিকভাবে তার মাঝে তেমন কোনো দোষ নেই। তবে তার মানসিকতার সাথে আপনার মানসিকতা মিলছে না।
এ ব্যাপারে হাদিসে বলা হয়েছে–
‘মানবাত্মাসমূহ যেন বিভিন্ন সমষ্টিতে বিভক্ত। (রুহের জগতে) যারা পরস্পর পরিচিত হয়েছে, এখানেও (দুনিয়ায়) তারা পরস্পরকে ভালোবাসবে। আর সেখানে যারা পরস্পর অপরিচিত ছিল, এখানে তাদের মধ্যে অনৈক্য হবে।’ বুখারি : ৩৩৩৬
অতএব, আত্মাসমূহের মাঝে মিল থাকলে পারস্পরিক ভালোবাসা সৃষ্টি হবে। আর অমিল থাকলে অনৈক্য দেখা দেবে।
এ বিষয়টি কখনো কখনো প্রথম দৃষ্টিতেই অথবা প্রথম সাক্ষাতেই উপলব্ধি করা যায়। আবার কখনো-বা ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলার পর অথবা ছোটোখাটো আচরণের মাধ্যমে বোঝা যায়। তখন হয়তো দেখা যায়, তার প্রতি কোনো মহব্বত সৃষ্টি হচ্ছে না; বরং দুজনের আন্তরিক সম্পর্কের মাঝে যেন দেখা দিয়েছে অভেদ্য দেয়াল।
হয়তো এ কারণেই নবি ﷺ বিবাহের জন্য প্রস্তাবকৃত নারীকে আগেই দেখে নিতে বলেছেন। একজন সাহাবি যখন আল্লাহর রাসূল ﷺ-কে জানালেন, তিনি এক নারীকে বিবাহের প্রস্তাব দিয়েছেন। তখন রাসূল ﷺ জিজ্ঞাসা করলেন, ‘তুমি কি তাকে দেখেছ?’
জবাবে তিনি বললেন, ‘না!’
তখন আল্লাহর রাসূল বললেন–
‘তাকে দেখে নাও। কারণ, এটি তোমাদের মাঝে সম্পর্ক স্থায়ী হওয়ার উত্তম পদ্ধতি।’ মুসনাদে আহমাদ : ১৮১৫৪
অর্থাৎ পারস্পরিক দৃষ্টি বিনিময়ের ফলে একে অপরের প্রতি হয়তো টান অনুভূত হবে। কারণ, চোখ হলো অন্তরের দূত। দেখার অধিকার কেবল পুরুষের জন্য নয়; বরং নারীরও অধিকার।
এ জন্য পুরুষ যেমনিভাবে তার হবু স্ত্রীকে ﷺ দেখবে, তেমনি নারীর জন্যও হবু স্বামীকে দেখার ব্যবস্থা করে দিতে হবে। একে অপরের সঙ্গে কথা বলবে, যেন কথাবার্তা ও আচার-আচরণে একে অপরকে বুঝতে পারে। সেইসঙ্গে চেহারা-সুরতের দিক থেকেও যেন একে অপরের মনপূত হয়।
এর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো, এর মাধ্যমে যেন একে অপরের অন্তরে জায়গা করে নিতে পারে। যেন পরস্পরকে ঘনিষ্ঠ, পরিপূরক ও নিজের অংশবিশেষ মনে হয়। যেমন আল্লাহ তায়ালা বলেন–
‘তোমরা একে অপরের অংশ।’ সূরা আলে ইমরান : ১৯৫
এমন যেন মনে না হয় যে, তাদের দুজন দুই মেরুতে। একজন প্রাচ্যে আরেকজন পাশ্চাত্যে। এমন হলে দুজনের মাঝে কোনো মিল থাকবে না।
‘মুমিন জীবনে পরিবার বই থেকে...)

0 Comments