স্মার্ট প্যারেন্টিং উইথ মুহাম্মাদ (সা.)
আজকে যেই বইটি রিভিউ দিচ্ছি সে বইটি সম্পর্কে শুরুতেই আমার ভালোলাগা কাজ করেছে এই জন্য যে, আমরা সকলেই ছোটবেলা থেকে যেরকম সীরাত পড়ে এসেছি, সেখানে নবীজির বাল্যকাল, নবুওয়াত, হিজরত ইত্যাদি বিষয়ে জানলেও শিশুদের জন্য বা সন্তানদের জন্য রাসূল কেমন ছিলেন সেই বিষয়গুলোর অধিকাংশই আমাদের অজানা! উক্ত বইটি সেই অজানা বিষয়গুলো সুন্দরভাবে উপস্থাপন করেছেন যা একজন পাঠক হিসেবে আমার নতুনভাবে জানার সৌভাগ্য হয়েছে।
বর্তমান সময়ের আধুনিকতার জোয়ারে বাবা-মা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সন্তানকে গড়তে গিয়ে নানান জটিলতা, সময়ের স্বল্পতা, কাজের চাপে সন্তানের পরিচর্যায় ব্যর্থ! কিন্তু একজন শিশু প্রকৃত শিক্ষাই পায় তার বাবা-মায়ের থেকে। ছোট থেকে বাবা-মা যেই আদর্শে সন্তানকে গড়ে তোলেন, সন্তান ঠিক সেভাবেই একটু একটু করে সেই আদর্শ বুকে নিয়ে বড় হয়ে উঠতে থাকে।
কিন্তু আমাদের সমাজে আজকাল অধিকাংশ বাবা-মা সীরাত সম্পর্কে অবগত নন। তারা ছোট থেকে বাচ্চাকে বড়দের মতো করে শিক্ষা দিয়ে থাকেন। সমাজের কঠিন কঠিন নিয়মনীতিগুলো বাচ্চাদেরকে ছোট থেকে মাথায় ঢুকিয়ে দেন জন্য সন্তানেরা সেই কঠিন নিয়ম মানতে না পেরে নানান ধরণের অন্যায় অপরাধ সংঘটিত করে ফেলে।
কিন্তু ‘স্মার্ট প্যারেন্টিং উইথ মুহাম্মাদ সা.’ বইটিতে একটি সন্তানকে ছোট থেকে শুরু করে তার কিশোর বয়সেরও নানান শিক্ষা সীরাত আকারে উল্লেখ করা হয়েছে।
#পরথম_অধ্যায়ে আমার কাছে যেই টপিকসটা ভালো লেগেছে সেটি হলো হযতর আলি (রা:) ও ফাতিমার বিয়েটা খুব অল্প বয়সে হয়। যেটা আমাদের সমাজে বেমানান! কারণ এটি আমাদের সমাজের মারাত্মক ব্যাধি যেটি লেখক অতি স্পষ্টভাবে বইটিতে লিখেছেন।
আবার সন্তান ও পিতার বয়সের পার্থক্যও নিয়েও বইটিতে চমৎকার ভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, যা একজন পাঠক হিসেবে আমার অনবদ্য লেগেছে।
#দবিতীয়_অধ্যায়ে শিশুদের ভালোবেসে কোন একটা কাজ করার প্রতি উৎসাহ দিতে বলার ক্ষেত্রে একটি হাদীস উপস্থাপন করা হয়েছে। সেটি হলো-----
রাসূল (সা:) মুয়াজকে বলেছেন-
"মুয়াজ, আমি তোমাকে ভালোবাসি। প্রত্যেক নমাজের শেষে এই দু'আটা করতে ভুলবেনা কিন্তু. . . . . হে আল্লাহ্! আপনাকে স্মরণ করতে, আপনার প্রতি কৃতজ্ঞ হতে, ঠিকঠাক মতো আপনার ইবাদাত করতে আমাকে সাহায্য করুন
_______[আবু দাউদ]
#পঞচম_অধ্যায়ে সন্তানকে নীতিথার পাঠ শেখানোর ক্ষেত্রে নবীজির উপদেশগুলো চমৎকার ভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
এবং বইটিতে ‘শালীনতার পাঠ’ অধ্যায়ে কিশোর বয়সে সন্তানকে কিভাবে লালন করবেন, সন্তানের কিশোর মনের যতো অজানা কৌতুহলগুলোর সঠিক উত্তর সম্পর্কে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
আমাদের বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় সমস্যা যেটি সেটি হলো সন্তানের কিশোর বয়সের জৈবিক চাহিদা বা ভূলগুলো! বাবা-মা অনেক ক্ষেত্রেই সন্তানের বয়সঃস্বন্ধিকালকে গুরুত্বহীন নজরে দেখেন, যার ফলে সন্তান তার জৈবিক চাহিদা সম্পর্কে অবগত হওয়ার উন্মাত্ততায় অনেক পাপের পথে পা বাড়িয়ে ফেলে।
আমাদের সমাজের অধিকাংশ পিতা-মাতা সন্তানের সাথে বন্ধুসুলভ ব্যবহারের পরিবর্তে কঠোরতা বা সমাজের নিয়মগুলো সন্তানের উপরে চাপিয়ে দিয়ে থাকেন! যার কারণে সন্তানের মনে জানা-অজানা বিষয় নিয়ে নানান কৌতুহল সৃষ্টি হলেও তারা ভয় করে বা সমাজের বিভ্রান্তি মূলক নিয়মনীতির কথা ভেবে অনেক কিছুই গোপন করে থাকে। যার পরিণামে বড় হতে হতে তারা নৈতিক মূল্যবোধ হারিয়ে ফেলে!
সুতরাং সন্তানকে নীতি-নৈতিকতা শিক্ষা দিতে হলে প্রথমত বাবা-মাকে সন্তানের সাথে বন্ধুসুলভ হতে হবে।
☑️সন্তান বড় হওয়ার সাথে সাথে তাকে নামায শিক্ষা দিতে হবে।
☑️শালীনতা শেখাতে হলে দরজায় কড়া নাড়ানো শেখাতে হবে।
☑️সন্তান বড় হলে বিছানা আলাদা করতে হবে।
☑️ঘরের বাইরে কিভাবে শালীনতা বজায় রাখতে হবে সেটা শেখাতে হবে এবং সর্বশেষ👉
☑️আপনার সন্তানকে সূরা নুর শিক্ষা দিন॥
পরিশেষে এটায় বলবো- আজকের শিশুই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। আর সেই শিশুকে গড়তে হলে প্রত্যেক পিতা-মাতারই উচিত সীরাত পড়া ও সন্তানকে সেই আলোকে গড়ে তোলার চেষ্টা করা। তবেই আমরা দেখবো ভবিষ্যতে এক নৈতিকতার আলোয় উজ্জ্বল বাংলাকে...(ইনশা'আল্লাহ্)
- বইয়ের নাম: স্মার্ট প্যারেন্টিং উইথ মুহাম্মাদ (সা.)
- লেখক: মাসুদ শরীফ
- প্রকাশনায়: গার্ডিয়ান পাবলিকেশন্স
- কাগজ: ৮০ গ্রাম (অফসেট)

0 Comments