Ad Code

Ticker

8/recent/ticker-posts

ওয়ার্ল্ড বেস্টসেলার বই ‘দি ইটার্নাল চ্যালেঞ্জ’ থেকে

 কুরআন যদি মুহাম্মাদ ﷺ কর্তৃক রচিত হতো, তাহলে কুরআনের ভাষার সাথে তাঁর অন্যান্য কথাবার্তা ও ভাষার মিল থাকাটা অবশ্যম্ভাবী ছিল।

দি ইটার্নাল চ্যালেঞ্জ



কারণ, মানুষ সাধারণত সৃষ্টিকর্মে নিজের ছাপ রেখে যায়। অর্থাৎ প্রতিটি সৃষ্টিকর্মে তার শিল্পীর প্রতিচ্ছবি পাওয়া যায়।

মুহাম্মাদ ﷺ-এর হাজার হাজার হাদিস সংরক্ষিত আছে। সাহাবি, তাবেয়িন, তাবে-তাবেয়িনদের মাধ্যমে প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম প্রতিটি হরফসহ অপরিবর্তিত আছে। সম্প্রতি কুরআনের ভাষার সাথে হাদিসের ভাষাতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ করা হয়েছে। বিশেষত কুরআনের সাথে সহিহ বুখারির ভাষার তুলনা করা হয়েছে।

সহিহ বুখারি হলো হাদিসগ্রন্থগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বিশুদ্ধ। গবেষণার পর যাবতীয় ভাষাতাত্ত্বিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা থেকে এটা স্পষ্ট হয়েছে, কুরআন-হাদিস এই দুইয়ের প্রবক্তা ভিন্ন।

যে সকল ভিত্তির ওপর এ উপসংহারে আসা হয়েছে, তার কিছু নিম্নরূপ :

• এক অক্ষর দিয়ে তৈরি শব্দ কুরআনে অনেক বেশি পরিমাণে ব্যবহৃত হয়েছে, কিন্তু হাদিসে এর ব্যবহার তেমন একটা দেখা যায় না।

• কুরআনে হাদিসের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণসংখ্যক ৯ ও ১০ অক্ষরের শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে। এখান থেকে বোঝা যায়, কুরআনে হাদিসের তুলনায় দীর্ঘতর শব্দের ব্যবহার হয়েছে বেশি (আট অক্ষরের অধিক)।

• সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হলো–হাদিসে ব্যবহৃত শব্দগুলোর মধ্যে ৬২ শতাংশ শব্দই কুরআনে পাওয়া যায় না। আবার কুরআনের ৮৩ শতাংশ শব্দ হাদিসে নেই। শব্দের এই বড়ো হেরফের থেকেও এটা স্পষ্ট হয়, কুরআন ও হাদিসের উৎস ভিন্ন।

কুরআন যদি আসলেই মুহাম্মাদ ﷺ-এর রচিত হতো, তাহলে এটা কীভাবে সম্ভব, ২৩ বছর যাবৎ তিনি সব সময় স্পষ্ট পার্থক্য রেখে দুটি ভিন্ন স্টাইলে কথা বলে এসেছেন?

কুরআনের অনেকগুলো আয়াত হঠাৎ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তাৎক্ষণিকভাবে নাজিল হয়েছে। অর্থাৎ পরিকল্পনা করে ভিন্ন রীতি অনুসরণ করার সময়-সুযোগ অনেক ক্ষেত্রেই ছিল না, তবুও কীভাবে কুরআন ও হাদিসের ভাষাভঙ্গিতে আলাদা স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য রাখা সম্ভব? এটা নবিজির রচনা হলে এই পার্থক্য কখনোই সম্ভব হতো না।

আবার মুহাম্মাদ ﷺ তাঁর নবুয়তি ও দাওয়াতি জীবনে অনেকগুলো পরীক্ষার সম্মুখীন হয়েছেন। তাঁর সন্তানের মৃত্যু, প্রিয়তমা স্ত্রী খাদিজা (রা.)-এর ইন্তেকাল, অবরুদ্ধ অবস্থায় তিন বছর কাটানো, ঘনিষ্ঠ সাহাবিদের ওপর চলমান অকথ্য অত্যাচার, এমনকি হত্যার মতো কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে থেকে কুরআনের মতো সুস্থির সাহিত্যরীতি রক্ষা করা অসম্ভব।

কুরআন তাঁর রচনা হলে এতে এই সমস্ত আবেগের প্রতিফলন পাওয়া যেত, কিন্তু কুরআনে এগুলোর কোনো প্রতিফলন নেই। হাদিসে নববিতে তাঁর এই আবেগগুলো উঠে এসেছে।

আপনি হাদিসের কিতাবগুলোতে দেখবেন, বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন পরিস্থিতিতে তাঁর আবেগের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে, কিন্তু কুরআনের ভাষায় সেই ওঠানামা নেই। কুরআনের ভাষায় আল্লাহ তায়ালা অবিরতভাবে তাঁর ইলাহি গুণ ধরে রেখেছেন।

ওয়ার্ল্ড বেস্টসেলার বই ‘দি ইটার্নাল চ্যালেঞ্জ’ থেকে

Post a Comment

0 Comments

Ad Code