প্রতিবছর হজের মৌসুমে দেখা যায়, হাজিদের একটি বড়ো অংশ নফল হজ আদায়ের জন্য যান।

অনেকে আবার প্রতিবছর রমজান মাসে উমরা পালন করেন। এসব নফল কাজকে আঞ্জাম দিতে গিয়ে সেখানে (বিলাসবহুল আবাসন, খাবার-দাবার কিংবা কেনাকাটার মাধ্যমে) বিপুল অর্থ ব্যয় হয়। অথচ প্রয়োজনের অতিরিক্ত এই খরচে অসংখ্য দরিদ্র মুসলমানের বহুল আকাক্সিক্ষত বায়তুল্লাহ জিয়ারতের ব্যবস্থাপনা হতে পারত; আর্থিক অনটনের কারণে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন যা তাদের ওপর বাধ্যতামূলক করে দেননি।
নফল হজ কিংবা উমরার এই বড়ো বাজেটকে আপনি যদি ই*হুদিদের বিরুদ্ধে যু>দ্ধরত ফিলিস্তিনিদের সহযোগিতায়, সার্বদের মোকাবিলায় বসনিয়ার ভাইদের সহযোগিতায় কিংবা ইন্দোনেশিয়া, বাংলাদেশের মতো দেশগুলোতে খ্রিষ্টান মিশনারিদের কার্যক্রম মোকাবিলায় খরচের জন্য বলেন, তবে দেখবেন–তারা আপনার কাছ থেকে মুখ ফিরিয়ে চলে যাবে। এ ছাড়াও দাওয়াহ সেন্টার প্রতিষ্ঠা, আদর্শ ও দক্ষ দাঈ তৈরি এবং ইসলামি প্রকাশনা ও অনুবাদকেন্দ্র প্রতিষ্ঠার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকে তারা পুরোপুরিভাবে উপেক্ষা করে থাকেন।
অথচ কুরআনের স্পষ্ট নির্দেশনা হচ্ছে–জিহা>দের কার্যক্রম হজের কার্যক্রমের চেয়ে অধিক মর্যাদাপূর্ণ। মহান আল্লাহ বলেন–
اَجَعَلْتُمْ سِقَايَةَ الْحَاجِّ وَعِمَارَةَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ كَمَنْ اٰمَنَ بِاللهِ وَالْيَوْمِ الْاٰخِرِ وَجَاهَدَ فِىْ سَبِيْلِ اللهِ لَايَسْتَوُوْنَ عِنْدَ اللهِ وَاللهُ لَايَهْدِى الْقَوْمَ الظَّالِمِيْنَ- اَلَّذِيْنَ اٰمَنُوْا وَهَاجَرُوْا وَجَاهَدُوْا فِىْ سَبِيْلِ اللهِ بِاَمْوَالِهِمْ وَاَنْفُسِهِمْ اَعْظَمُ دَرَجَةً عِنْدَ اللهِ وَاُولٰٓئِكَ هُمُ الْفَائِزُوْنَ- يُبَشِّرُهُمْ رَبُّهُمْ بِرَحْمَةٍ مِّنْهُ وَرِضْوَانٍ وَّجَنَّاتٍ لَّهُمْ فِيْهَا نَعِيْمٌ مُّقِيْمٌ-
‘হাজিদের পানি পান করানো আর মসজিদে হারামের আবাদ করাকে তোমরা কি তাদের কাজের সমান মনে করো, যারা আল্লাহ ও পরকাল দিবসে বিশ্বাস স্থাপন করে এবং আল্লাহর পথে জি#হা>দ করে? আল্লাহর দৃষ্টিতে এরা সমান নয়। জালিম সম্প্রদায়কে আল্লাহ সৎপথে পরিচালিত করেন না। যারা ঈমান আনে, হিজরত করে আর নিজের জানমাল দিয়ে আল্লাহর পথে জি#হা>দ করে, আল্লাহর নিকট তাদের বিরাট মর্যাদা রয়েছে, এরাই হলো সফলকাম। তাদের প্রতিপালক তাদের সুসংবাদ দিচ্ছেন তাঁর দয়া ও সন্তুষ্টির আর জান্নাতের–যেখানে তাদের জন্য আছে স্থায়ী সুখসামগ্রী।’ (সূরা তাওবা : ১৯-২১)
একের অধিক হজ ও উমরা পালন মূলত নফল হিসেবে সাব্যস্ত। অথচ কুফরি, নাস্তিকতা, সেক্যুলারিজম ইত্যাদি অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক শক্তিগুলোর বিরুদ্ধে জি#হা>দে অবতীর্ণ হওয়াটাই বর্তমান সময়ের দাবি।
দুই বছর পূর্বে হজের মৌসুম আরম্ভের সময় বিশিষ্ট মুসলিম গবেষক আমার বন্ধুবর ওস্তাদ ফাহমি হুয়াইদি [মিশরীয় লেখক, সাংবাদিক ও গবেষক] একটি আর্টিকেলে অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় লিখেছিলেন–‘বর্তমান সময়ে বসনিয়ান মুসলমানদের পাশে দাঁড়ানো ফরজ হজ আদায়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’
এই আর্টিকেলটি পড়ার পর অনেকে আমাকে ইসলামি শরিয়াহ ও ফিকহি দৃষ্টিকোণ থেকে এ কথার বিশুদ্ধতার ব্যাপারে জানতে চেয়েছিলেন। আমি তখন বলেছিলাম, লেখক সঠিক মন্তব্য করেছেন। কেননা, শরিয়াহর অন্যতম মূলনীতি হলো–দুটো আবশ্যকীয় আমলের মধ্যে যেটি আর্জেন্ট বা জরুরি, সেটিকে প্রাধান্য দিতে হবে এমন আমলের ওপর, যা বিলম্বে পালনের সুযোগ আছে।
ফরজ হজের বিষয় হচ্ছে–তা পরেও পালনের সুযোগ আছে। অনেক ফকিহ তা বিলম্বে পালনের কথা বলেছেন। আর বসনিয়ানদের একদিক থেকে দুর্ভিক্ষ, শীত ও রোগ থেকে রক্ষা করা, অপরদিক থেকে সার্বদের গণহত্যা থেকে মুক্ত করা বর্তমানে সকল মুসলমানের ওপর জরুরিভিত্তিক ফরজ। যে ফরজ আদায়ের ক্ষেত্রে বিলম্ব করার কোনো সুযোগ নেই। মুসলমানদের জীবন রক্ষার কাজকে প্রাধান্য দিয়ে জরুরি ভিত্তিতে সকলকে এ কাজে এগিয়ে আসতে হবে।
তবে নিঃসন্দেহে এটাও গুরুত্বপূর্ণ–হজের বার্ষিক কার্যক্রমকে বলবৎ রাখা। এ ব্যাপারে কেউ দ্বিমত পোষণ করে না। তবে তা হারামাইনের আশেপাশে অবস্থিত মুসলমানদের মাধ্যমেও চালু রাখা যেতে পারে; যাদের হজ পালনে তেমন অর্থের প্রয়োজন হয় না।
আমি মনে করি, ওস্তাদ হুয়াইদি বসনিয়ানদের সহযোগিতাসংক্রান্ত যে বিষয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন, হজের স্বাভাবিক কার্যক্রমের পাশাপাশিও তা বাস্তবায়িত হতে পারে।
কেননা, প্রতিবছর হজের মৌসুমে উপস্থিত হওয়া হাজিদের সংখ্যা পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, তাঁদের অধিকাংশই ইতঃপূর্বে হজ সম্পন্ন করেছেন। প্রথমবারের মতো হজ করতে এসেছেন–এমন সংখ্যা ১৫ শতাংশের চেয়ে বেশি হবে না। সুতরাং হাজিদের সংখ্যা যদি ২০ লক্ষ হয়, তন্মধ্যে মাত্র ৩ লক্ষ প্রথমবার হজ পালনে এসেছেন।
অনেকেই দ্বিতীয়বার কিংবা একাধিকবার নফল হজ সম্পন্ন করতে যান। আবার অনেকেই প্রতিবছর রমজান মাসে নফল উমরা পালন করেন। তারা যদি নফল হজ কিংবা উমরার এ খরচটি আল্লাহর রাস্তায় দান করতেন, তবে কতই-না ভালো হতো!
বিভিন্ন জনপদে নির্যাতিত মুসলমানদের রক্ষায় এসব সম্পদ খরচ করা উচিত, জালিমদের থাবার নিচে যাদের অধিকার ভূলুণ্ঠিত হচ্ছে। উন্নত বিশ্ব যা দেখেও না দেখার অভিনয় করছে। জোর যার মুল্লুক তার–এ নীতির ওপর কর্তৃত্ব নির্ধারিত হচ্ছে।
আমি কাতার, মিশরসহ উপসাগরীয় অঞ্চলের অসংখ্য ধর্মপরায়ণ লোককে জানি, যারা প্রতিবছর হজকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পালন করেন। আবার এমন অনেককেও চিনি, যারা ৪০ বছর যাবৎ হজ পালন করে চলেছেন। কেবল নিকটাত্মীয়, বন্ধু-বান্ধব এবং পরিচিতদের মধ্যেই এ সংখ্যা ১০০ জনের মতো হবে।
কোনো এক বছর তাদের বলেছিলাম, (তখন আমি মূলত ইন্দোনেশিয়া সফর করে এসেছিলাম। সেখানের গ্রাম-গঞ্জে খ্রিষ্টান মিশনারিদের ভয়াবহ কার্যক্রম নিজ চোখে দেখেছি। তাদের কার্যক্রমের বিপরীতে শিক্ষা, চিকিৎসা ও সমাজকল্যাণে মুসলমানদের ব্যাপক কর্মতৎপরতার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছিলাম) এ বছর আপনারা হজে না গিয়ে সে অর্থ মিশনারিদের মোকাবিলায় খরচ করতে পারেন। প্রতিজন ১০ হাজার করে দিলে ১০০ জনের অর্থের পরিমাণ ১০ লক্ষে গিয়ে দাঁড়ায়।
এ উদ্যোগ বড়ো কোনো প্রজেক্টের সূচনা করতে পারে। আমরা যদি এমন কল্যাণমুখী উদ্যোগ গ্রহণ করি, তবে পরবর্তী প্রজন্ম এসে আমাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করতে পারে। তখন আমরা তাদের ভালো কাজগুলোর সওয়াবের ভাগীদার হব।
আমার এ প্রস্তাবের জবাবে তারা বলেছিল–‘আমরা জিলহজ মাস আগমন করলেই হজের জন্য উদ্গ্রীব হয়ে উঠি। আমাদের রুহ তখন কাবার পানে যেতে চায়। হাজিদের সাথে একসাথে অবস্থান করলে অন্যরকম আনন্দ অনুভব করি। সুতরাং অন্য কোনো কাজের কারণে এ আমলকে বন্ধ রাখতে পারব না।’
মুসলিম জনগোষ্ঠীর যদি ইসলামের সঠিক জ্ঞান এবং বিশুদ্ধ ঈমানের পাশাপাশি ইসলামের অগ্রাধিকার নীতির ব্যাপারে পরিপূর্ণ ধারণা থাকত, তাহলে কী হতো জানেন? তখন অবশ্যই ইসলামের কল্যাণমুখী প্রকল্পগুলোয় অর্থ ব্যয় করে তারা হজের চেয়েও অধিক আনন্দ, রুহানিয়্যাত ও পরিতৃপ্তি খুঁজে পেত।
এতিমের দায়িত্ব গ্রহণ, ক্ষুধার্তদের মুখে আহার প্রদান, বঞ্চিতদের অধিকার প্রতিষ্ঠা, রোগীদের শুশ্রƒষা, মূর্খদের শিক্ষাদান, বেকারদের কর্মসংস্থান তৈরি ইত্যাদি বিষয়কেই তারা সর্বাধিক প্রাধান্য দিত।
নফল হজ কিংবা উমরার এই বড়ো বাজেটকে আপনি যদি ই*হুদিদের বিরুদ্ধে যু>দ্ধরত ফিলিস্তিনিদের সহযোগিতায়, সার্বদের মোকাবিলায় বসনিয়ার ভাইদের সহযোগিতায় কিংবা ইন্দোনেশিয়া, বাংলাদেশের মতো দেশগুলোতে খ্রিষ্টান মিশনারিদের কার্যক্রম মোকাবিলায় খরচের জন্য বলেন, তবে দেখবেন–তারা আপনার কাছ থেকে মুখ ফিরিয়ে চলে যাবে। এ ছাড়াও দাওয়াহ সেন্টার প্রতিষ্ঠা, আদর্শ ও দক্ষ দাঈ তৈরি এবং ইসলামি প্রকাশনা ও অনুবাদকেন্দ্র প্রতিষ্ঠার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকে তারা পুরোপুরিভাবে উপেক্ষা করে থাকেন।
অথচ কুরআনের স্পষ্ট নির্দেশনা হচ্ছে–জিহা>দের কার্যক্রম হজের কার্যক্রমের চেয়ে অধিক মর্যাদাপূর্ণ। মহান আল্লাহ বলেন–
اَجَعَلْتُمْ سِقَايَةَ الْحَاجِّ وَعِمَارَةَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ كَمَنْ اٰمَنَ بِاللهِ وَالْيَوْمِ الْاٰخِرِ وَجَاهَدَ فِىْ سَبِيْلِ اللهِ لَايَسْتَوُوْنَ عِنْدَ اللهِ وَاللهُ لَايَهْدِى الْقَوْمَ الظَّالِمِيْنَ- اَلَّذِيْنَ اٰمَنُوْا وَهَاجَرُوْا وَجَاهَدُوْا فِىْ سَبِيْلِ اللهِ بِاَمْوَالِهِمْ وَاَنْفُسِهِمْ اَعْظَمُ دَرَجَةً عِنْدَ اللهِ وَاُولٰٓئِكَ هُمُ الْفَائِزُوْنَ- يُبَشِّرُهُمْ رَبُّهُمْ بِرَحْمَةٍ مِّنْهُ وَرِضْوَانٍ وَّجَنَّاتٍ لَّهُمْ فِيْهَا نَعِيْمٌ مُّقِيْمٌ-
‘হাজিদের পানি পান করানো আর মসজিদে হারামের আবাদ করাকে তোমরা কি তাদের কাজের সমান মনে করো, যারা আল্লাহ ও পরকাল দিবসে বিশ্বাস স্থাপন করে এবং আল্লাহর পথে জি#হা>দ করে? আল্লাহর দৃষ্টিতে এরা সমান নয়। জালিম সম্প্রদায়কে আল্লাহ সৎপথে পরিচালিত করেন না। যারা ঈমান আনে, হিজরত করে আর নিজের জানমাল দিয়ে আল্লাহর পথে জি#হা>দ করে, আল্লাহর নিকট তাদের বিরাট মর্যাদা রয়েছে, এরাই হলো সফলকাম। তাদের প্রতিপালক তাদের সুসংবাদ দিচ্ছেন তাঁর দয়া ও সন্তুষ্টির আর জান্নাতের–যেখানে তাদের জন্য আছে স্থায়ী সুখসামগ্রী।’ (সূরা তাওবা : ১৯-২১)
একের অধিক হজ ও উমরা পালন মূলত নফল হিসেবে সাব্যস্ত। অথচ কুফরি, নাস্তিকতা, সেক্যুলারিজম ইত্যাদি অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক শক্তিগুলোর বিরুদ্ধে জি#হা>দে অবতীর্ণ হওয়াটাই বর্তমান সময়ের দাবি।
দুই বছর পূর্বে হজের মৌসুম আরম্ভের সময় বিশিষ্ট মুসলিম গবেষক আমার বন্ধুবর ওস্তাদ ফাহমি হুয়াইদি [মিশরীয় লেখক, সাংবাদিক ও গবেষক] একটি আর্টিকেলে অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় লিখেছিলেন–‘বর্তমান সময়ে বসনিয়ান মুসলমানদের পাশে দাঁড়ানো ফরজ হজ আদায়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’
এই আর্টিকেলটি পড়ার পর অনেকে আমাকে ইসলামি শরিয়াহ ও ফিকহি দৃষ্টিকোণ থেকে এ কথার বিশুদ্ধতার ব্যাপারে জানতে চেয়েছিলেন। আমি তখন বলেছিলাম, লেখক সঠিক মন্তব্য করেছেন। কেননা, শরিয়াহর অন্যতম মূলনীতি হলো–দুটো আবশ্যকীয় আমলের মধ্যে যেটি আর্জেন্ট বা জরুরি, সেটিকে প্রাধান্য দিতে হবে এমন আমলের ওপর, যা বিলম্বে পালনের সুযোগ আছে।
ফরজ হজের বিষয় হচ্ছে–তা পরেও পালনের সুযোগ আছে। অনেক ফকিহ তা বিলম্বে পালনের কথা বলেছেন। আর বসনিয়ানদের একদিক থেকে দুর্ভিক্ষ, শীত ও রোগ থেকে রক্ষা করা, অপরদিক থেকে সার্বদের গণহত্যা থেকে মুক্ত করা বর্তমানে সকল মুসলমানের ওপর জরুরিভিত্তিক ফরজ। যে ফরজ আদায়ের ক্ষেত্রে বিলম্ব করার কোনো সুযোগ নেই। মুসলমানদের জীবন রক্ষার কাজকে প্রাধান্য দিয়ে জরুরি ভিত্তিতে সকলকে এ কাজে এগিয়ে আসতে হবে।
তবে নিঃসন্দেহে এটাও গুরুত্বপূর্ণ–হজের বার্ষিক কার্যক্রমকে বলবৎ রাখা। এ ব্যাপারে কেউ দ্বিমত পোষণ করে না। তবে তা হারামাইনের আশেপাশে অবস্থিত মুসলমানদের মাধ্যমেও চালু রাখা যেতে পারে; যাদের হজ পালনে তেমন অর্থের প্রয়োজন হয় না।
আমি মনে করি, ওস্তাদ হুয়াইদি বসনিয়ানদের সহযোগিতাসংক্রান্ত যে বিষয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন, হজের স্বাভাবিক কার্যক্রমের পাশাপাশিও তা বাস্তবায়িত হতে পারে।
কেননা, প্রতিবছর হজের মৌসুমে উপস্থিত হওয়া হাজিদের সংখ্যা পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, তাঁদের অধিকাংশই ইতঃপূর্বে হজ সম্পন্ন করেছেন। প্রথমবারের মতো হজ করতে এসেছেন–এমন সংখ্যা ১৫ শতাংশের চেয়ে বেশি হবে না। সুতরাং হাজিদের সংখ্যা যদি ২০ লক্ষ হয়, তন্মধ্যে মাত্র ৩ লক্ষ প্রথমবার হজ পালনে এসেছেন।
অনেকেই দ্বিতীয়বার কিংবা একাধিকবার নফল হজ সম্পন্ন করতে যান। আবার অনেকেই প্রতিবছর রমজান মাসে নফল উমরা পালন করেন। তারা যদি নফল হজ কিংবা উমরার এ খরচটি আল্লাহর রাস্তায় দান করতেন, তবে কতই-না ভালো হতো!
বিভিন্ন জনপদে নির্যাতিত মুসলমানদের রক্ষায় এসব সম্পদ খরচ করা উচিত, জালিমদের থাবার নিচে যাদের অধিকার ভূলুণ্ঠিত হচ্ছে। উন্নত বিশ্ব যা দেখেও না দেখার অভিনয় করছে। জোর যার মুল্লুক তার–এ নীতির ওপর কর্তৃত্ব নির্ধারিত হচ্ছে।
আমি কাতার, মিশরসহ উপসাগরীয় অঞ্চলের অসংখ্য ধর্মপরায়ণ লোককে জানি, যারা প্রতিবছর হজকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পালন করেন। আবার এমন অনেককেও চিনি, যারা ৪০ বছর যাবৎ হজ পালন করে চলেছেন। কেবল নিকটাত্মীয়, বন্ধু-বান্ধব এবং পরিচিতদের মধ্যেই এ সংখ্যা ১০০ জনের মতো হবে।
কোনো এক বছর তাদের বলেছিলাম, (তখন আমি মূলত ইন্দোনেশিয়া সফর করে এসেছিলাম। সেখানের গ্রাম-গঞ্জে খ্রিষ্টান মিশনারিদের ভয়াবহ কার্যক্রম নিজ চোখে দেখেছি। তাদের কার্যক্রমের বিপরীতে শিক্ষা, চিকিৎসা ও সমাজকল্যাণে মুসলমানদের ব্যাপক কর্মতৎপরতার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছিলাম) এ বছর আপনারা হজে না গিয়ে সে অর্থ মিশনারিদের মোকাবিলায় খরচ করতে পারেন। প্রতিজন ১০ হাজার করে দিলে ১০০ জনের অর্থের পরিমাণ ১০ লক্ষে গিয়ে দাঁড়ায়।
এ উদ্যোগ বড়ো কোনো প্রজেক্টের সূচনা করতে পারে। আমরা যদি এমন কল্যাণমুখী উদ্যোগ গ্রহণ করি, তবে পরবর্তী প্রজন্ম এসে আমাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করতে পারে। তখন আমরা তাদের ভালো কাজগুলোর সওয়াবের ভাগীদার হব।
আমার এ প্রস্তাবের জবাবে তারা বলেছিল–‘আমরা জিলহজ মাস আগমন করলেই হজের জন্য উদ্গ্রীব হয়ে উঠি। আমাদের রুহ তখন কাবার পানে যেতে চায়। হাজিদের সাথে একসাথে অবস্থান করলে অন্যরকম আনন্দ অনুভব করি। সুতরাং অন্য কোনো কাজের কারণে এ আমলকে বন্ধ রাখতে পারব না।’
মুসলিম জনগোষ্ঠীর যদি ইসলামের সঠিক জ্ঞান এবং বিশুদ্ধ ঈমানের পাশাপাশি ইসলামের অগ্রাধিকার নীতির ব্যাপারে পরিপূর্ণ ধারণা থাকত, তাহলে কী হতো জানেন? তখন অবশ্যই ইসলামের কল্যাণমুখী প্রকল্পগুলোয় অর্থ ব্যয় করে তারা হজের চেয়েও অধিক আনন্দ, রুহানিয়্যাত ও পরিতৃপ্তি খুঁজে পেত।
এতিমের দায়িত্ব গ্রহণ, ক্ষুধার্তদের মুখে আহার প্রদান, বঞ্চিতদের অধিকার প্রতিষ্ঠা, রোগীদের শুশ্রƒষা, মূর্খদের শিক্ষাদান, বেকারদের কর্মসংস্থান তৈরি ইত্যাদি বিষয়কেই তারা সর্বাধিক প্রাধান্য দিত।
0 Comments